রিটার্নের সঙ্গে যেসব তথ্য ও প্রমাণ দাখিল করতেই হবে

রিটার্নের সঙ্গে যেসব তথ্য ও প্রমাণ দাখিল করতেই হবে: আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড Image

Key point of this Post

প্রতি বছর করদাতাদের জন্য সঠিক সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা একটি আইনি দায়িত্ব। তবে শুধু রিটার্ন ফর্ম পূরণ করে জমা দিলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। আপনার আয়ের উৎস, বিনিয়োগ এবং সম্পদের সত্যতা প্রমাণের জন্য বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়।

আপনি যদি একজন করদাতা হন, তবে রিটার্নের সঙ্গে যেসব তথ্য ও প্রমাণ দাখিল করতেই হবে তা আগে থেকেই জেনে রাখা ভালো। এতে শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়ানো যায় এবং ট্যাক্স ফাইল নির্ভুল হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক ট্যাক্স রিটার্ন জমার সময় কোন কোন প্রমাণাদি সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।

১. আয়ের উৎস সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি

আপনার আয়ের খাতের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট কিছু কাগজপত্র রিটার্নের সাথে যুক্ত করতে হবে:

  • চাকরিজীবী বা বেতনভোগী শ্রেণির জন্য:
    • আয়কর অধ্যাদেশের নিয়মানুযায়ী নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত বেতন সার্টিফিকেট (Salary Certificate) বা ১২ মাসের পে-স্লিপ।
    • ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণী (যেখানে বেতন জমা হয়)।
  • ব্যবসা বা পেশাগত আয়ের ক্ষেত্রে:
    • ব্যবসার লাভ-ক্ষতির হিসাব এবং উদ্বৃত্তপত্র (Balance Sheet)।
    • ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
    • বিশেষ নোট: ল ফার্ম বা পেশাদার সেবা খাতের হিসাব ব্যবস্থাপনার জন্য অনেকে best law firm accounting software in bangladesh ব্যবহার করে থাকেন, যা থেকে প্রাপ্ত নিখুঁত আর্থিক প্রতিবেদন রিটার্নের সাথে জমা দেওয়া যায়।
  • বাড়ি ভাড়া বা সম্পত্তি থেকে আয়:
    • ভাড়া চুক্তিনামা (Rental Agreement) এবং প্রতি মাসের ভাড়া প্রাপ্তির রসিদ।
    • বাড়ি ভাড়ার টাকা যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে, তার স্টেটমেন্ট।
    • পৌর কর (Municipal Tax), ভূমি উন্নয়ন কর বা রেট রসিদ এবং ব্যাংক লোনের মাধ্যমে বাড়ি তৈরি হলে তার সুদের সার্টিফিকেট।

২. ব্যাংক ও আর্থিক বিবরণী

আপনার নামে থাকা সমস্ত ব্যাংক হিসাবের তথ্য স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করতে হবে:

  • ১লা জুলাই থেকে ৩০শে জুন (অর্থবছর) পর্যন্ত সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (Bank Statement)
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রাপ্ত মুনাফা বা সুদের ওপর যে ট্যাক্স কাটা হয়েছে, তার ট্যাক্স ডিডাকশন সার্টিফিকেট (TDS Certificate)

৩. কর রেয়াত বা বিনিয়োগের প্রমাণাদি

আয়করে ছাড় বা রেয়াত পেতে চাইলে আপনার বিনিয়োগের সপক্ষে প্রমাণ দাখিল করা বাধ্যতামূলক। যেমন:

  • জীবন বীমার প্রিমিয়াম পরিশোধের রসিদ।
  • সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের কপি এবং মুনাফা প্রাপ্তির বিবরণী।
  • ডিপিএস (DPS) বা এফডিআর (FDR)-এর ব্যাংক সার্টিফিকেট।
  • অনুমোদিত কোনো তহবিলে (যেমন: প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল বা যাকাত ফান্ড) অনুদানের রসিদ।

৪. সম্পদ ও দায়ের বিবরণী (আইটি-১০বি)

নির্দিষ্ট সীমার ওপর সম্পদ থাকলে সম্পদ ও দায়ের বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এর জন্য লাগবে:

  • জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ি ক্রয়ের দলিল এবং রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র।
  • শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ থাকলে ব্রোকারেজ হাউজ থেকে প্রাপ্ত পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট।
  • ব্যাংক লোন বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত ঋণ থাকলে তার হালনাগাদ ব্যালেন্স সার্টিফিকেট।

৫. অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র

কাগজপত্রের যেকোনো আইনি জটিলতা এড়াতে বা সঠিক আইনি পরামর্শের জন্য অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আপনি যদি একজন ভালো ট্যাক্স আইনজীবী খুঁজছেন, তবে কিভাবে ভালো লয়ার খুঁজে পাবেন এই নির্দেশিকাটি দেখে নিতে পারেন। রিটার্নের সাথে আরও যা লাগবে:

  • করদাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)-এর ফটোকপি।
  • ১২ ডিজিটের ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেটের কপি।
  • পূর্ববর্তী বছরের রিটার্ন জমার প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বা অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপের কপি (যদি আগে রিটার্ন দিয়ে থাকেন)।

শেষ কথা

রিটার্নের সঙ্গে যেসব তথ্য ও প্রমাণ দাখিল করতেই হবে—তা জানা থাকলে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়ে যায়। সঠিক নথিপত্র জমা না দিলে পরবর্তীতে কর অফিস থেকে অডিট বা শুনানির নোটিশ আসতে পারে। তাই সময় থাকতে সমস্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করুন এবং একজন দক্ষ কর আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে নির্ভুলভাবে আপনার ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করুন।

What do you think?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Get The Best Advocate in Bangladesh

Find Your Lawyer

More Filters

Show More